
আমার পড়া সেরা বই
আমার প্রিয় ২৫ বই
এটাকে প্রিয় বইয়েত তালিকা বলা ভুল হবে। এটা মূলত সেই বইগুলোর তালিকা, যা আমার চিন্তাভাবনা কিংবা পড়াশোনায় নতুন টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছে এবং জানার কোন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে।
১. মোরা বড় হতে চাই
- আহসান হাবীব ইমরোজ
আমার একাডেমিক পড়াশোনায় মনযোগী হই এবং রস খুঁজে পাই এই বইটির মাধ্যমে। একাডেমিক পড়াশোনার বাহিরে বই পড়ার নেশা তৈরির সূচনাবিন্দুও এটিই।
২. পলাশী থেকে বাংলাদেশ
- অধ্যাপক গোলাম আযম
বাংলাদেশের ইতিহাসের উপর প্রথম কোন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পাই এই বইয়ের মাধ্যমে।
৩. বারমুডা ট্রাইএঙ্গেল এবং দাজ্জাল
- মাওলানা আসেম ওমর
বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থা সম্পর্কে অন্যভাবে ভাবতে শিখায় বইটি। যদিও এটি ছিল প্রান্তিক চিন্তাধারার এবং কিছু অতিরঞ্জিত বিষয় সংবলিত।
৪. মহাপ্রলয়
- শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আরিফী
আগের বইটির মাধ্যমে যে চিন্তাধারা গড়ে উঠেছিল তার মাঝে ভারসাম্য এনে দেয় এটি।
৫. দুই পলাশী দুই মিরজাফর
- কে এম আমিনুল হক
এই বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মিরজাফরের আড়ালে পড়ে যাওয়া পলাশী ট্রাজেডী পূর্ব জগৎশেঠের মত হিন্দুদের অপকর্মসমূহকে সামনে নিয়ে আসা। ফলে মিরজাফরকে পলাশীর মূল খলনায়ক হিসেবে ভাবনার সমাপ্তি ঘটে এবং তাকে অন্যদের হাতের পুতুল ছাড়া আর কিছুই ছিল না বলে মনে হয়।
৬. আমি আলবদর বলছি
- কে এম আমিনুল হক
"মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ভাল ছিল" এই ভাবনার সমাপ্তি ঘটায়।
৭. আমার ফাঁসি চাই
- বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান রেন্টু
আমাদের বর্তমান মাননীয়াকে ভুল বুঝানো হয় বলে মনে হতো। কিন্তু তিনি কতোটা দাগী অপরাধী সেটা এই বইয়ের মাধ্যমে সামনে আসে৷ তবে বইয়ের সব তথ্যই অথেনটিক মনে করার কোন কারণ নেই।
৮. জীবনে যা দেখলাম
- অধ্যাপক গোলাম আযম
"পলাশী থেকে বাংলাদেশ" বইয়ের চিন্তার বিস্তারিত সামনে আসে। সেই সাথে বর্তমানে তার শিষ্যরাও যে তার চিন্তাধারা থেকে দূরে সরে গেছে সেটিও বুঝা যায়।
৯. আমাদের জাতিসত্ত্বার বিকাশধারা
- মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান
আমাদের শিকড় কাটার চেষ্টার বৃত্তান্ত সামনে আসে।
১০. উলটো নির্নয়
- তোয়াহা আকবর
নাস্তিকদের জবাবে এই বইটি সবচেয়ে শক্তিশালী মনে হয়েছে।
১১. কষ্টিপাথর
- ডাঃ শামসুল আরেফীন
"আমরা বিজ্ঞান দিয়ে ইসলাম যাচাই করার দৃষ্টতা দেখাব না, বরং ইসলামের যে বিষয়গুলো বিজ্ঞানও স্বীকার সেগুলো তুলে ধরব৷ কারণ মাপকাঠিকে কখনো অন্য কিছুকে তুলনা করা যায় না।" এটিই বইয়ের মূল ভাবধারা। ঝাড়ফুঁক কিংবা অজুর মত ইসলামের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ও যে কতটা বিজ্ঞান সম্মত তা সামনে আসে৷
১২. ইসলামী সমাজ বিপ্লবের ধারা
- সাইয়্যেদ কুতুব
ইসলামী আন্দোলন কিভাবে সফলতায় পৌছবে সেটির রোডম্যাপ মনে হয়েছে।
১৩. তাফসীরে সূরা তাওবা
- ডঃ আব্দুল্লাহ ইউসূফ আ য যা ম
একজন সরাসরি জিহা দকারী ব্যাক্তির চিন্তাধারা কেমন হতে পারে তা দেখতে পাই। বিশেষ করে যেখানে তিনি ছিলেন কারও প্রতি বিদ্বেষমুক্ত প্রকৃত মধ্যমপন্থী চিন্তাধারার, যা এই বইয়ের মাধ্যমেই সামনে আসে।
১৪. সাইমুম সিরিজ
- আবুল আসাদ
ইসলামের বিশ্বব্যাপী বিস্তৃতি এবং পৃথিবীর আনাচে কানাচে চলা ইসলামী আন্দোলনগুলোর সাথে জানাশোনা হয়।
১৫. তত্ত্ব ছেড়ে জীবনে
- শরীফ আবু হায়াত অপু
১৬. বাক্সের বাইরে
- শরীফ আবু হায়াত অপু
মেশিনের মত চলা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং ইসলাম পালনে কিছু ভাবনার খোরাক জোগায়।
১৭. সুদ ও আধুনিক ব্যাংকিং
- সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদূদী
সুদ ছাড়াও অর্থনীতি কিভাবে মানবমুক্তির হাতিয়ার হতে তার বাস্তব চিত্র দেখতে পাই।
১৮. ইসলাম ও জাতীয়তাবাদ
- সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদূদী
আমরা মুসলিম জাতীয়তার চিন্তা করলেও তা আসলে সেক্যুলার জাতীয়তার কাঠামোর আলোকেই চিন্তা করি। কিন্তু এই বইয়ের মাধ্যমে প্রচলিত জাতীয়তার সাথে মুসলিম জাতীয়তা যে কতটা ভিন্ন ধরনের তা বুঝতে পারি।
১৯. ইসলামী সংস্কৃতির মর্মকথা
- সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদূদী
আক্বিদাকে আমরা শুধু অন্তরে সাজিয়ে রাখার জিনিস মনে করি। কিন্তু এই বইয়ের মাধ্যমে বাস্তব জীবনের সাথে আক্বিদার যোগসূত্র খুঁজে পাই।
২০. গীবত
- ইমাম গাজালী
গীবত নিয়ে সালফে সালেহীনরা কি পরিমাণ সতর্ক ছিলেন, তা তুলে ধরা হয়েছে। যার ফলে ইসলামের বিধান পালনের ক্ষেত্রে সালফে সালেহীনদের সাথে আমাদের দূরত্ব চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় বইটি।
২১. দামেস্কের কারাগারে
- এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
স্পেন বিজয় এবং মুসা বিন নুসাইর ও তারিক বিন যিয়াদ সম্পর্কে প্রথম জানা।
২২. ভারত অভিযান
- এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
সুলতান মাহমুদ সম্পর্কে জানার সূচনা।
২৩. আগুনের কারাগার
- আব্দুর রাজ্জাক হেকনোভিক
খাওলা বেগোভিচ
বসনিয়ায় সার্ব হায়েনাদের হিংস্র থাবার ঘটনা বিবৃত হয়েছে। যার মাধ্যমে জাতিসংঘসহ পশ্চিমাদের মুখোশের আড়ালের চেহারাও দেখতে পাই।
২৪. ইসলাম ও গনতন্ত্র
মাওলানা আসেম ওমর
"জনগণের সার্বভৌমত্ব" ছাড়াও ইসলামের সাথে গনতন্ত্রের যে আরও বিরোধ আছে তা এই বইয়ের মাধ্যমেই জানা।
২৫. কৃষ্ণপক্ষ
- হুমায়ূন আহমেদ
এটাকে বলা চলে প্রিয় লেখকের বই। যদিও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে মূল্যহীন লেখা, কিন্তু তার লেখা আমি সবচেয়ে ফ্লুয়েন্টলি পড়তে পারি। আর এটিই আমরা পড়া হুমায়ুন আহমেদের প্রথম বই। পরবর্তীতে ইতিহাসের কিছুটা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে লেখকের "নন্দিত নরকে" এবং "দেয়াল" বইটিও আমার পঠিত বইয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়।
আপাতত আর মাথায় আসছে না......
১০ নভেম্বর ২০২০
আপনার মন্তব্য লিখুন