আবার যদি যেতাম


আবার যদি ছুটে যেতাম গাঁয়ে!

সরষে ফুলের পরাগ মেখে

ধূলো মাখা পায়ে।

মিশে যেতাম নগ্ন বালক দলে!

ভর দুপুরে ঝাপ দিয়ে

কোমল নদীর জলে।

লুকিয়ে দেখতাম সবুজ পাতার ভীরে

কেমন করে ঘুঘু পাখি

বসে আছে নতুন গড়া নীড়ে!

চুপি চুপি বারে বারে দেখে,

ইচ্ছে আমার জেগে ওঠে

কিছু খুদকুঁড়ো যায় রেখে।

তখন পুলক জাগা মনে

ছুটে যেতাম আকাশ ছুঁতে

ঘাস ফরিংয়ের সনে।

ঘুরে ঘুরে সবুজ আলের বাঁকে

ইচ্ছেমত রং কুড়াতাম,

প্রজাপতির ঝাঁকে!

রঙ রাঙানো মনে বসে উঁচু ডালে!

ছেলেমেয়ে গান ধরিতাম

বেসুর গলার তালে।

এসো না ভাই, একটু ছোট হই!

খুঁজে দেখি কোথায় আমার

পুতুল কালের সই!

সইয়ের বাড়ি পুতুল শাড়ি দিয়ে,

খুব সাজিতাম মনের মতো

পুতুল ছেলের বিয়ে!

সই রেঁধে দিতো বুনো শাকের ঝোল

ঝাকে ঝাকে বসে যেতাম,

সাথে কলাপাতার খোল।

রাগ করিতাম এতো কেন দেরী!

সই হেসে বলতো

আমরা যে সব ছোট্ট ছেরাছেরি!

আমার মেয়ে তোমার বাড়ি যাবে

তোমরা আসবে আবার কবে!

তাই আয়েশ করে একটু খেয়ে যাবে।

হেসে হেসে পাড়া হতো সাড়া!

রঙ মাখিয়ে ফের ছুটিতাম

বরযাত্রী যারা।

এসো না ভাই, একটু ছোট হই!

খুঁজে দেখো বাবার সেই

মাছের ঝুড়ি কই!

উষার আলোয় কাঁধে নিয়ে জাল,

বাবার সাথে ছুটে যেতাম

ধলেশ্বরীর খাল।

বাবা জাল ছুড়িত নিপুন হাতের তালে

ঝুড়ি হাতে খুব ভাবিতাম,

এবার অনেক মাছ পড়বে জালে!

জাল খুলতাম, মাছ ধরতাম সুখে

সেই স্মৃতি আজ রাঙা হয়ে

জাগে আমার বুকে।

চলো না ভাই,একটু ছোট হই!

কোথায় গেল সোনার দিন!

আমরা যে আজো বড় নয়!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্টিকেল খুঁজুন